Skip to main content

গল্প-১



জাপানের তাকামায়া গ্রামে একজন জ্ঞানী ও বৃদ্ধ কৃষক বাস করতেন। কৃষক লোকটির একটা সুন্দর ও শক্তিশালী ঘোড়া ছিল। কৃষি কাজে , ভারী জিনিস বহনে ও নিত্যদিনের চলা ফেরায় ঘোড়াটিকে তিনি ব্যবহার করতেন।

একদিন ঘোড়াটি হারিয়ে গেলো। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না।

কৃষকের স্ত্রীর খুব মন খারাপ।কিন্তু কৃষক লোকটির কোন অস্থিরতা নেই। তার কোন আফসোস নেই। হারিয়ে যাওয়া ঘোড়ার জন্য তার কোন দুঃচিন্তা নেই। তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোন কিছুই যেন হারায়নি।

আসে পাশের প্রতিবেশীরা এসে বললো, "তোমার কি দুর্ভাগ্য ! একটা মাত্র ঘোড়া তাও হারিয়ে গেলো "

এই কথা শুনে কৃষক লোকটি একটু মৃদু হেসে বললো , "হতে পারে "

তার কিছুদিন পর ঘোড়াটি আবার কৃষকের বাড়ি ফিরে আসলো এবং তার সাথে আরোও তিনটি বন্য ঘোড়া।

কৃষকের বাড়িতে অনেক আনন্দ।

শুধু হারানো ঘোড়া ফিরে আসেনি , তার সাথে আবার আরোও তিনটা ঘোড়া।

প্রতিবেশীরা আবার দেখতে আসলো , সবাই লোকটিকে বলতে থাকলো , "তোমার কি সৌভাগ্য , হারানো ঘোড়া ফিরে পেয়েছো সেই সাথে আবার তিনটা বাড়তি ঘোড়া "

কৃষক আগের মতই হাসি মুখে বললো , "হতে পারে"

দুই দিন পর কৃষকের একমাত্র ছেলে একটা বন্য ঘোড়ায় চড়তে চেষ্টা করে। কিন্তু ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এবং পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙে ফেলে।

এই খবর শুনে প্রতিবেশীরা এসে খুবই আফসোস করলো। কৃষককে দুঃখ করে বললো , "এমন করে ছেলের পা ভেঙে গেলো , সত্যিই বড় দুর্ভাগ্য ! "

কথা শুনে কৃষক লোকটি মুচকি হেসে বললো , "হতে পারে"

পরদিনই কৃষকের বাড়িতে রাজার সৈন্যরা এসে হাজির। যুদ্ধের জন্য তারা গ্রামের যুবক ছেলেদেরকে ধরে নিয়ে যেতে এসেছে।

কিন্তু কৃষকের ছেলের ভাঙা পা দেখে তাকে না নিয়েই চলে গেলো।

এইবার প্রতিবেশিরা এসে সবাই বললো , "তোমারতো দেখছি অনেক বড় সৌভাগ্য , ছেলেকে আর যুদ্ধে গিয়ে মরতে হবে না "

মৃদু হেসে কৃষকের একই উত্তর , "হতে পারে "

বৃদ্ধ কৃষকই ঠিক। এক জীবনে ভালো -মন্দ সবকিছুকেই মেনে নিতে হয়।

সুরঙ্গ মুভি ডাউনলোড করতে এখানে চাপুন

Comments

Popular posts from this blog

গল্প-২

ফানি গল্প -------- ম্যাডাম ক্লাসে ঢুকেই বললেন, "বিজয় তুই নাকি রিয়াকে প্রেমপত্র দিয়েছিস! রিয়া তো তোর প্রেমপত্র পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে।" ম্যাডামের কথা শুনে আমার কলিজা শুকিয়ে গেল। -রিয়া ম্যাডামের একমাত্র মেয়ে। ডাইনী মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। -ম্যাডাম আবার বলল, "কিরে, তুই উত্তর দিচ্ছিস না কেন?" ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেল। যেকোনো সময় প্যান্ট নষ্ট করে ফেলার মতন অবস্থা। জীবনে কখনো ম্যাডামের ক্লাসে পড়া দিয়েছি বলে মনে পড়ে না। ম্যাডাম এমনিতেই আমাকে দেখতে পারেন না। তার উপর তাঁর মেয়েকে প্রেমপত্র দিয়েছি, সেটা পড়ে বেচারি অজ্ঞান... ম্যাডাম আমার অবস্থা যে আজ কি করবেন, সেটা বুঝার বাকি রইলো না। মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকছি। -ম্যাডাম আস্তে আস্তে এগিয়ে এলেন আমার দিকে। ক্লাসের সবাই সার্কাস দেখার অপেক্ষায় আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ম্যাডাম আমার কাছে এসে চিঠিটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, "পড়ে শোনা।" ম্যাডামের কথা শুনে এবার গলা পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ। আমি লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। ম্যাডাম তাঁর ডাইনী কণ্ঠে চিৎকার করে উঠে বললেন, "এক্ষুণি প...

কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি

কর্ণফুলি নদীর উৎপত্তি ---------------------------------- কর্ণফুলি নদী (Karnafuli River) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নদী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে ১৮০ কিমি পার্বত্য পথ অতিক্রম করে রাঙ্গামাটিতে একটি দীর্ঘ ও সংকীর্ণ শাখা বিস্তার করে পরবর্তী সময়ে অাঁকাবাঁকা গতিপথে ধুলিয়াছড়ি ও কাপ্তাইয়ে অপর দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে। রাঙ্গামাটি ও ধুলিয়াছড়ি শাখাদুটি বর্তমানে কাপ্তাই লেক-এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ বাঁধটি কাপ্তাই শাখার ভেতরে নদী প্রবেশের ঠিক আগে অবস্থিত। কাপ্তাই শাখা থেকে বেরিয়ে কর্ণফুলি নদী সীতাপাহাড় পর্বতমালার ভেতর দিয়ে আরেকটি অাঁকাবাঁকা গতিপথ পাড়ি দিয়ে চন্দ্রঘোনার কাছে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রামের সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বরকল, গোবামুরা, চিলারডাক, সীতাপাহাড় ও পটিয়ার বেশ কয়েকটি পর্বতমালা অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে। কর্ণফুলি নদী উত্তরে রাউজান উপজেলা ও দক্ষিণে বোয়ালখালি উপজেলাকে রেখে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভেতর দিয়ে পশ্চিমমুখী প...